পোস্টগুলি

বালুচর

আর একদিন আসিও বন্ধু Apr 22, 2010  |  বালুচর  |  0 comments আর একদিন আসিও বন্ধু-আসিও এ বালুচরে, বাহুতে বাঁধিয়া বিজলীর লতা রাঙা মুখে চাঁদ ভরে। তটিনী বাজাবে পদ-কিঙ্কিণী, পাখিরা দোলবে ছায়া, সাদা মেঘ তব সোনার অঙ্গে মাখাবে মোমের মায়া। আসিও সজনি, এই বালুচলে, আঁকা-বাঁকা পথখানি; এধারে ওধারে ধান ক্ষেত তারে লয়ে করে টানাটানি। কখনো সে গেছে ওধারে বাঁকিয়া কখনো এধারে আসি, এরে ওরে লয়ে জড়াজড়ি করে ছড়ায় ধুলার হাসি। এহ পথ দিয়ে আসিও সজনি, প্রভাতে ও সন্ধ্যায়, দিগন্ত জোড়া ধানের ক্ষেতের গন্ধ মাখিয়া গায়। চরের বাতাস বাতাস করিয়া শীতল করিছে যারে, সেই পথে তুমি চরণ ফেলিয়া আসিও এ নদী পারে। আর একদিন আসিও সজনি, এ মোর কামনাখানি, মুখ বালুচরে আখর এঁকেছি নখরে নখর হানি। লিখিয়াছি তাহা পাখির পাখায় মোর নিঃশ্বাস ঘায়ে, আর লিখিয়াছি দুর গগনের কনক মেঘের ছায়ে। সেই সব তুমি পড়িয়া পড়িয়া অলস অবশ কায়, এইখানে এসে থামিও বন্ধু মোর বেনুবন-ছায়া। এই বেনুবন মোর সাথে সাথে কাঁদিয়াছে বহুরাতি, পাতায় পাতায় জড়াজড়ি করি উতল পবনে মাতি। এইখানে সখি। সাক্ষ্য হইয়া রাতের প্রহরগুলি, কত যে কঠোর...

রাখালি কাব্য

রাখালী -  জসীম উদ্‌দীন --- রাখালী এই গাঁয়েতে একটি মেয়ে চুলগুলি তার কালো কালো, মাঝে সোনার মুখটি হাসে আঁধারেতে চাঁদের আলো। রানতে বসে জল আনতে সকল কাজেই হাসি যে তার, এই নিয়ে সে অনেক বারই মায়ের কাছে খেয়েছে মার। সান করিয়া ভিজে চুলে কাঁখে ভরা ঘড়ার ভারে মুখের হাসি দ্বিগুণ ছোটে কোনমতেই থামতে নারে। এই মেয়েটি এমনি ছিল, যাহার সাথেই হত দেখা, তাহার মুখেই এক নিমেষে ছড়িয়ে যেত হাসির রেখা মা বলিত, বড়ুরে তুই, মিছেমিছি হাসিস্ বড়, এ শুনেও সারা গা তার হাসির চোটে নড় নড়! মুখখানি তার কাঁচা কাঁচা, না সে সোনার, না সে আবীর, না সে ঈষৎ ঊষার ঠোঁটে আধ-আলো রঙিন রবির! কেমন যেন গাল দুখানি মাঝে রাঙা ঠোঁটটি তাহার, মাঠে ফোটা কলমি ফুলে কতকটা তার খেলে বাহার। গালটি তাহার এমন পাতল ফুঁয়েই যেন যাবে উড়ে দু একটি চুল এলিয়ে পড়ে মাথার সাথে রাখছে ধরে। সাঁঝ-সকালে এ ঘর ও ঘর ফিরত যখন হেসে-খেলে; মনে হত ঢেউয়ের জ্বলে ফুলটিরে কে গেছে ফেলে! এই গাঁয়ের এক চাষার ছেলে ও পথ দিয়ে চলতে ধীরে ওই মেয়েটির রূপের গাঙে হারিয়ে গেল কলসটিরে। দোষ কি তাহার? ওই মেয়েটি মিছেমিছি এমনি হাসে, ...